adimage

২০ অক্টোবর ২০১৮
বিকাল ০৭:১৪, শনিবার

৯ ইরানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

আপডেট  02:58 AM, মার্চ ২৫ ২০১৮   Posted in : আন্তর্জাতিক    

৯ইরানিরবিরুদ্ধেযুক্তরাষ্ট্রেরনিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২৫ মার্চ : ইরানের পরমাণু চুক্তি বাতিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তৎপরতার ঘাটতি নেই। ইরানের ৯ ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে সেই তৎপরতাকে আরো খানিকটা এগিয়ে নিল তার প্রশাসন। গত শুক্রবার ওই সব ইরানি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের অভিযোগ এনে তাঁদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন।

ইরানের ৯ ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ১৪৪টি বিশ্ববিদ্যালয়, অন্যান্য ২১ দেশের ১৭৬টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিষয়ক দপ্তর থেকে ৩১ টেরাবাইটের বেশি তথ্য চুরি করেছে। এক লাখেরও বেশি অধ্যাপকের ই-মেইল হ্যাকারদের লক্ষ্যবস্তু ছিল। অধ্যাপকদের অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্রের। চুরি গেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (এফইআরসি) তথ্যও। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের দিকেও তাদের নজর ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউসের সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, ওই ৯ ব্যক্তি ইরান সরকারের হয়ে কাজ করছে কমপক্ষে ২০১৩ সাল থেকে। তবে ইরান সরকার তাদের সরাসরি নিয়োগ দেয়নি। ইরানের ক্ষমতাধর ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের হয়ে মাবনা ইনস্টিটিউট নামের একটি প্রতিষ্ঠান হ্যাকারদের অর্থায়ন করছে। হ্যাকারদের চুরি করা তথ্য ইরানের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করার জন্যই মাবনা ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি।

যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রড রোজেনস্টেইন জানান, অভিযুক্ত ৯ ইরানিকে পলাতক বিবেচনা করা হচ্ছে। তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে তারা প্রত্যর্পণের মুখোমুখি হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমেরিকার কম্পিউটার সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করে বুদ্ধিবৃত্তিক তথ্য চুরি করে শত্রুভাবাপন্ন যেসব লোক আমেরিকার পরিকল্পনা থেকে ফায়দা লোটার চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হবে এবং তাদের শাস্তি দেওয়া হবে।’ যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপের কারণে হ্যাকারদের প্রচেষ্টা ব্যাহত হবে এবং তারা একই ধরনের অপরাধ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়বে বলে মন্তব্য করেন রোজেনস্টেইন।

ইরানি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপকে ‘উসকানিমূলক, অবৈধ’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম ঘাসেমি। তাঁর দাবি, ‘কোনো ন্যায্য কারণ ছাড়াই’ যুক্তরাষ্ট্র এ পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ‘এটা ইরানি জাতির প্রতি (যুক্তরাষ্ট্রে) প্রশাসনিক বলয়ের শত্রুতার আরেকটা উদাহরণ।’

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে করা ইরানের পরমাণু চুক্তি মানতে একেবারেই নারাজ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। চুক্তি বাতিলের হুমকি তিনি দিয়েছেন বেশ কয়েকবার। তার ওপর তিনি গত বৃহস্পতিবার তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদের জন্য বেছে নিয়েছেন জন বোল্টনকে, যিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনার পরিবর্তে দেশটির ওপর সামরিক অভিযানের দিকেই বেশি আগ্রহী। বোল্টনকে প্রশাসনে জায়গা দেওয়ার পরদিনই ইরানের ৯ নাগরিক ও একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল।

ইরানের এসব হ্যাকারের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে আরো ছিল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ৩৬টি এবং ইতালি, ব্রিটেন, জার্মানিসহ বেশ কয়েকটি দেশের ১১টি কম্পানি। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১১টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। সূত্র : রয়টার্স।


সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul